ইঞ্জিনের সাসপেনশন সিস্টেম – Suspension System of Engine

ইঞ্জিনের সাসপেনশন সিস্টেম – Suspension System of Engine.

সম্মানিত দর্শকবৃন্দ ( আসসালামু )

আপনারা এই পোস্ট থেকে জানতে পারবেন

( ইঞ্জিনের সাসপেনশন সিস্টেম – Suspension System of Engine সম্পর্কে )

৪.১ ইঞ্জিন সাসপেনশন সিস্টেম।

গাড়ি চলার পথে রাস্তার অসমতা জনিত কারণে উৎপন্ন ধাক্কা হতে গাড়ি ও যাত্রীদের রক্ষা করা সমন্বিত পদ্ধতিকে সাসপেনশন সিস্টেম বলে।

সাসপেনশন সিস্টেম রাস্তায় যেকোনো অবস্থায় গাড়িকে নির্বিঘ্নে ঝাকুনিবিহীন এবং আরামদায়ক চলার নিশ্চয়তা বিধান করে।

এ লক্ষ্যে গাড়িতে সম্মুখ ও পশ্চাৎ অংশে বিভিন্ন ধরনের স্প্রিং ব্যবহার করা হয়।

এ স্প্রিংসমূহ মূলত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে রাস্তার ধাক্কা হতে গাড়ি ও যাত্রীদের রক্ষা করে।

৪.২ ইঞ্জিন সাসপেনশন সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ।

১. মোটরযানের সাসপেনশন পদ্ধতি মোটরযানকে ঝাঁকনিবিহীন বা কম ঝাকুনিতে চলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে ‌।

২. সাসপেন পদ্ধতির যন্ত্রাংশ ঝাকুনি শোষণ করে যাত্রী সাধারণ কে আরামে ভ্রমণ করার নিশ্চয়তা দেয়।

৩. রাস্তা উঁচু নিচু থাকলেও সাসপেনশন পদ্ধতির যন্ত্রাংশ এ অবস্থ জনিত ঝাঁকুনি বডিতে যেতে দেয় না, যা চাকাতে সীমাবদ্ধ থাকে।

৪. এটা যানের এক্সেল ,কাঠামো প্রভৃতিকে সমান্তরাল ভাবে রাখে এবং সামান্য কাত হওয়া জনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করে।

৫. মোটরযানে ঝাঁকুনি হলে সাসপেনশন পদ্ধতি বিহীন মটর যানের বডি যাত্রীসহ উপরে উঠানামা করে চলে।

কিন্তু এমতাবস্থায় সাসপেনশন পদ্ধতি বিশিষ্ট মোটরযান স্থির অবস্থায় চলে।

৪.৩ ইঞ্জিন সাসপেনশন সিস্টেমের প্রকারভেদ ।

গাড়িতে স্প্রিং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে মূলত গাড়ির সাসপেনশন সিস্টেমকে শ্রেণীবিভাগ করা হয়েছে।

মূলত এই সিস্টেম পাঁচ প্রকারের কার্য সম্পন্ন করে থাকে। যথাঃ-

১. কয়েল স্প্রিং টাইপ সাসপেনশন পদ্ধতি।

২. লিপ স্প্রিং টাইপ সাসপেনশন পদ্ধতি।

৩. টরশান স্প্রিং টাইপ সাসপেনশন পদ্ধতি।

৪. হাইড্রোলস্টিক স্প্রিং টাইপ।

৫. হাইড্রো – নিউম্যাট্রিক টাইপ সাসপেনশন পদ্ধতি।

গাড়িতে ব্যবহৃত এরূপ মুখ্য সাসপেনশন সিস্টেমের সংক্ষিপ্ত বিবর নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

আরো পড়ুনঃ

ডাই মেশিন দিয়ে বাহিরের প্যাঁচ কাটার সহজ পদ্ধতি

ট্যাপ দ্বারা ভিতরের প্যাঁচ কর্তন করার নিয়ম

ভাঙ্গা বোল্ট স্ক্রু বেরকরণ সহজ কৌশল

১. কয়েল স্প্রিং টাইপ সাসপেনশন সিস্টেমঃ

এজাতীয় সাসপেনশন সিস্টেম সাধারণত মটর যানে বা হালকা গাড়ির সম্মুখ ও পিছনের চাকার ব্যবহার হয়ে থাকে।

এতে প্যাঁচানো কয়েল স্প্রিং থাকে যা শক অ্যাবজরবারের সাহায্য নিয়ে কাজ করে থাকে।

২. লীফ স্প্রিং টাইপ সাসপেনশন সিস্টেমঃ

এটি সাধারণত ভারী মোটরযান যথাঃ- বাস ট্রাক, ট্রলি ও লরির ন্যায় গাড়ির সম্মুখ ও পিছনের চাকার সাসপেনশন সিস্টেম হিসেবে কাজ করে।

পাত জাতীয় এ মেটালিক স্প্রিংকে স্তরে স্তরে সাজিয়ে এ সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়। এটিও শক অ্যাবজরবারের সাহায্য নিয়ে কাজ করে।

৩. টরশান স্প্রিং টাইপ সাসপেনশন সিস্টেমঃ

হালকা ও মাঝারি ধরনের গাড়িতে টরশান স্প্রিং জাতীয় সাসপেনশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।

এটি বার জাতীয় এবং মুছড়ানো প্রতিক্রিয়ায় গাড়ির ধাক্কা শোষণ করে।

এজাতীয় সাসপেনশন সিস্টেমও শক অ্যাবজরবারের সাহায্য নিয়ে কাজ করে।

৪. হাইড্রোলেস্টিক স্প্রিং ( রাবার হাইড্রোলিক ) টাইপ সাসপেনশন সিস্টেমঃ

এটি হালকা ও মাঝারি ধরনের কিছু কিছু গাড়িতে এ জাতীয় সাসপেনশন সিস্টেম ব্যবহার হয়ে থাকে।

এতে হাইড্রোলিক পাম্প ও রাবার প্যাড থাকে, যার সমন্বয়ে ধাক্কা শোষণ করা হয়।

৫. হাইড্র – নিউমেটিক ( গ্যাস ও হাইড্রোলিক ) টাইপ সাসপেনশন সিস্টেমঃ

এটি মাঝারি ও ভারী গাড়িতে ব্যবহার হয়ে থাকে।

গ্যাস চেম্বার থাকে এবং এর নিচে পাম্প পরিচালিত হাইড্রোলিক প্রবাহ থাকে।

গ্যাস সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে ধাক্কা শোষণ করে থাকে।

৪.৪ ইঞ্জিন সাসপেনশন সিস্টেমের ত্রুটি ও প্রতিকার।

উপসর্গ সম্ভাব্য ত্রুটিপ্রতিকার
১. ঝাঁকুনি প্রতিরোধ না হওয়া।(ক ) পাতাকৃতি স্প্রিং ভাঙা ( এক বা ততোদিক পাতা
( খ ) শক অ্যাবজর্বার অকেজো।
( গ ) সাসপেনশন যন্ত্রাংশের সংযোজন
U বোল্ট ও নাটখোলা ।
(ঘ) রাস্তা খারাপ এবং মোটরযানের চাকায় হাওয়া বেশি বোঝা
কম।
(ক) পাতাকৃতি স্প্রি ( এক বা ততোদিক ) পরিবর্তন করা ।
(খ ) শক অ্যাবজর্বার পরিবর্তন করা।
(গ) সাসপেনশন যন্ত্রাংশে U বোল্ট , নাট, বুশসহ লাগানো।
(ঘ) বোঝা কম , খারাপ রাস্তা হলে হাওয়া কিছুটা কম রাখা দরকার।
২. চলন্ত অবস্থায় মটর যানে শব্দ হবে।(ক) স্প্রিং ভাঙ্গা অথবা খোলা।
(খ) সাসপেনশন যন্ত্রাংশ অকেজো ও রাবারবুশ নেই।
(গ) এই যন্ত্রাংশের সংযোজন যন্ত্রাংশ খোলা।
(ক ) স্প্রিং পরিবর্তন ও যথাযথভাবে সংযোজন।
(খ) যন্ত্রাংশ পরিবর্তন ও বুশসহ সংযোজন।
(গ ) নিরীক্ষণ ও পুন: সংযোজন
৩. মোটরযানের এক পাশে নিচু হয়ে থাকা।(ক ) স্প্রিং ভাঙ্গা
(খ ) সাসপেনশন যন্ত্রাংশ অকেজো।
(গ ) স্প্রিং এর এক প্রান্ত খোলা।
(ক ) স্প্রিং পরিবর্তন।
(খ) যন্ত্রাংশ পরিবর্তন।
( গ ) সঠিকভাবে সংযোজন করতে হবে।

আশা করছি আপনারা এই পোস্ট থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন ‌‌।

আমার পোস্টটি যদি ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ সবাইকে

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *