ট্যাপ দ্বারা ভিতরে প্যাঁচ কর্তন পদ্ধতি – Cutting thread in inside peripheral with tap .

ট্যাপ দ্বারা ভিতরের প্যাঁচ কর্তন নিয়ম – Cutting thread in inside peripheral with tap .

সম্মানিত দর্শকবৃন্দ ( আসসালামু আলাইকুম )

আপনারা এই পোস্ট থেকে জানতে পারবেন ট্যাপ দ্বারা ভিতরের প্যাঁচ কর্তন করার নিয়ম সম্পর্কে।

( ট্যাপ দ্বারা ভিতরের প্যাঁচ কর্তন পদ্ধতি – Cutting thread in inside peripheral with tap )

২.১ বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ডের হস্ত চালিত ট্যাপ।

সাধারণত প্যাঁচের যে সকল স্ট্যান্ডার্ড সমূহ রয়েছে, প্রত্যেকটি স্ট্যান্ডার্ড পরিমাপের ডাই ও ট্যাপ রয়েছে।

আজকাল ইঞ্চির পরিমাপসমূহ বর্জিত হতে চলেছে, সে প্রেক্ষাপটে মিলিমিটার পরিমাপের স্ট্যান্ডার্ডসমূহই বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ স্ট্যান্ডার্ড সমূহ তে রয়েছে আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড ও আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড যেমনঃ এএনসই,এএনএফ, এবং ইউএনসি ও ইউএন এফ পরিমাপের ট্যাপই বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

২.২ হস্ত চালিত ট্যাপের সাইজ।

উল্লেখিত স্টান্ডার্ডের প্রত্যেকটি পরিমাপের আবার নিম্নে প্রদত্ত তিন সাইজের ট্যাপ রয়েছে। যেমনঃ

( ক ) ট্যাপার ট্যাপঃ

ট্যাপ সাইজ ড্রিল করনের পর প্রথমত এ ট্যাপার ট্যাপকে আগে ব্যবহার করতে হয়। এর সাহায্যে প্রাথমিক পর্যায়ের প্যাচ কর্তন করা হয় বিধায় একে ফাস্ট কাট ট্যাপ ও বলা যেতে পারে।

(খ ) প্লাগ-ট্যাপঃ

ট্যাপার ট্যাপের সাহায্যে প্যাচ কর্তনের পর প্যাঁচের ব্যাসের পরিমাপ ও পিচের পরিমাপ কিছুটা বর্ধিত করে। প্যাঁচকে সুন্দর যথার্থ করণের লক্ষ্যে ফ্ল্যাগ ট্যাপ পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে একে সেকেন্ড কাট বা ফাইনাল কাট ট্যাপ ও বলা চলে।

( গ ) বটমিং – ট্যাপঃ কোন বন্ধ ছিদ্র অর্থাৎ যে ছিদ্র ধাতুর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হয় না, এরূপ ছিদ্রের মধ্যে প্রথম ট্যাপ – সাইজ ড্রিল করে তারপর বটমিং – ট্যাপ পরিচালনা করে প্যাঁচ কর্তন করতে হয়।

২.৩ ট্যাপ রেঞ্জের বর্ণনা।

ট্যাপকে যে রেঞ্জে আটকিয়ে ট্যাপ পরিচালনা করে ধাতব গর্তে প্যাচ কর্তন করা হয়। তাকে ট্যাপ রেঞ্জ বলা হয়। ট্যাপ রেঞ্জ মুখ্যত নিম্নের তিন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমনঃ

( ক ) টি – টাইপ ট্যাপ রেঞ্জঃ

এর সম্মুখ প্রান্ত দেখতে ড্রিল চালকের ন্যায়। এতে দুটি হাতল রয়েছে যা ধরে ট্যাপ পরিচালনা করা হয়।

এতে চাক ও “জ” রয়েছে। যাতে ট্যাপ রেঞ্জের স্কয়ার অংশকে আটকানো হয়।

(খ ) বার- টাইপ ট্যাপ রেঞ্জঃ এর ব্যবহার সর্বাধিক।

এর ফ্রেম রয়েছে এবং দুটি হাতল রয়েছে একটি হাতলের সঙ্গে স্থির “জ” রয়েছে। অপর হাতলটির সঙ্গে চলন্ত “জ” রয়েছে।

নিয়ন্ত্রিত হাতলটি ঘুরিয়ে “জ” এর মধ্যবর্তী স্থান বড় ছোট করে ট্যাপের স্কয়ারের অংশ এতে সংযুক্ত অনড় করা হয়।

(গ ) সলিড টাইপ ট্যাপ রেঞ্জঃ

এর ফ্রেম , চতুষ্কোণ ছিদ্র ও দুটি হাতল থাকে।

চতুষ্কোণ ছিদ্রে ট্যাপের স্কয়ার পান্ত যুক্ত ও অনড় করে ছিদ্রের মধ্যে ট্যাপ পরিচালনা করতে হয়।

এতে দুটি “জ” ই চলমান থাকে এবং হাতল ঘুরিয়ে এগুলোকে ছোট বড় করে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

২.৪ ট্যাপ দ্বারা ভিতরের প্যাঁচ কর্তন প্রণালীঃ

ট্যাপ দ্বারা ধাতব পদার্থের ভিতরে প্যাচ কর্তন প্রণালী ধারাবাহিকভাবে নিচে বর্ণনা করা হলোঃ

1 . প্রথমত, এস ও ১.৩ এ প্রদত্ত সূত্র অনুসারে অথবা চার্ট হতে নির্ধারিত ট্যাপ পরিচালনার জন্য কত সাইজের ড্রিল দিয়ে ছিদ্র করতে হবে অর্থাৎ ট্যাপ সাইজ ড্রিল নির্বাচন করতে হবে।

2. ওয়ার্ক পিসকে ড্রিল ভাইসে আবদ্ধ করে এবং ট্যাপ সাইজ ড্রিল পরিচালনা করে ছিদ্র করে নিতে হবে।

3. প্রয়োজনে এক্ষেত্রে বিশেষ হস্ত চালিত ড্রিল চালিয়েও ছিদ্র করে নেওয়া যেতে পারে।

4. তারপর ট্যাপ সনাক্ত কর এবং একে ট্যাপ রেঞ্জে আটকাতে হবে।

5. ট্যাপ রেঞ্জসহ ট্যাপকে দুই এক প্যাঁচ আবর্তন করে সমকোণ স্থাপন করে এবং প্রয়োজনে চিত্রের ন্যায় ট্রাই স্কোয়ার দ্বারা সমকোণ স্থাপনের সঠিকতা নিরীক্ষণ করতে হবে।

6. এবার ট্যাপ রেঞ্জের দুই হাতলকে দুই হাতে ধরে আস্তে আস্তে চাপ প্রয়োগ করে ট্যাপ অগ্র পশ্চাৎ আবর্তন প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করতে হবে।

7. ঘড়ির কাটার পক্ষে ঘুরিয়ে আবার বিপক্ষে ঘুরিয়ে পরিচালনা করলে, কর্তিত ধাতব চিপস সহজে বের হয়ে আসবে।

8. কর্তন কালে মাঝে মাঝে কর্তিত স্থানে কাটিং অয়েল/লুব অয়েল প্রয়োগ করলে ভালো প্যাঁচ তৈরি হবে।

৯. ট্যাপার ট্যাপ পরিচালনা শেষ হলে ট্যাপকে বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে বের করে নিতে হবে।

১০. ট্যাপ রেঞ্জ হতে ট্যাপার ট্যাপ অপসারণ করে সে স্থানে প্লাগ ট্যাপ লাগাতে হবে।

১১. পূর্বের প্যাঁচের উপর দিয়ে কয়েকবার একই পরিমাপের প্লাগ ট্যাপ পরিচালনা করতে হবে।

১২. এভাবে প্যাঁচ কর্তন করতে হবে।

২.৫ ট্যাপ দ্বারা ধাতব পদার্থের ভিতরে প্যাঁচ কর্তন কালে পালনীয় সতর্কতা।

১. ট্যাপকে , ট্যাপ রেঞ্জের নির্ধারিত খাঁজে দৃঢ়ভাবে অনড় করতে হবে।

২. ট্যাপ পরিচালনার সময় ঘড়ির কাঁটার পক্ষে প্রতিবার ঘোরানোর পর, অর্ধবার ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরিয়ে আবার।

৩. ট্যাপ চালনা করার সময় তৈলাক্ত করতে হবে।

৪. ট্যাপকে জবের সমতলে রেখে পরিচালনা করতে হবে।

৫. ওয়ার্ক পিসকে ডাইসের সহিত শক্তভাবে আটকাতে হবে।

৬. ট্যাপ পরিচালনার সময় মাত্রাতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়।

৭. সর্বদা প্রথমে টেপার ট্যাপ ও পরবর্তীতে প্লাগ ট্যাপ পরিচালনা করে ভিতরের প্যাঁচ কাটা সম্পন্ন করতে হবে।

৮. বন্ধ গর্তের ক্ষেত্রে বটম ট্যাপ চালিয়ে প্যাঁচ কর্তন করতে হবে।

৯. ট্যাপ পরিচালনা কালে কাটিং স্থানকে তৈলাক্ত করা হলেও হাত ও হাতলকে সম্পূর্ণভাবে তৈলাক্ত মুক্ত রাখতে হবে।

১০. যদি কোন কারণে ট্যাপ ভেঙ্গে ছিদ্রের মধ্যে থেকে যায়, তাহলে ড্রাফটিং পাঞ্চ দ্বারা উল্টা দিকে আঘাত করে ভাঙ্গা ট্যাপের অংশ বের করে নিতে হবে।

১১. অবশ্য ট্যাপ পরিচালনা করার পূর্বে ট্যাপ সাইজ ড্রিল করে নিতে হবে।

১২. ড্রিলের ব্যাস বড় হলে প্যাঁচ হবে না।

১৩. ড্রিলের ব্যাস অধিক ছোট হলে ট্যাপ ভেঙে যেতে পারে।

আশা করছি আপনারা এই পোস্ট থেকে কিছু জানতে পেরেছেন ও কিছু শিখতে পেরেছেন।

আমার পোস্টটি যদি ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ সবাইকে

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *