ডাই মেশিন দিয়ে বাহিরের প্যাঁচ কাটার সহজ পদ্ধতি – Easy way to cut outer patch with die machine

ডাই মেশিন দিয়ে প্যাচ কাটার সহজ পদ্ধতি –

সম্মানিত দর্শকবৃন্দ ( আসসালামু আলাইকুম )

এই পোস্ট থেকে আপনারা জানতে পারবেন ডাই মেশিন দিয়ে বাহিরের প্যাঁচ কাটার সহজ পদ্ধতি ।

( ডাই মেশিন দিয়ে প্যাচ কাটার পদ্ধতি – Patch cutting rules with die machine )

১. হাতের প্যাচ কাটাঃ

প্রকৌশল ও কারিগরি কর্ম ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজে নাট, বোল্ট, স্ক্রু, স্টাড ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।

অটোমেটিভ কর্মশালায় এদের ব্যবহার সর্বাধিক।

যে সকল স্থানে নাট-বোল্ট, স্ক্রু ও স্টাড আটকাতে হয়, ওই সকল স্থানে যথাক্রমে ধাতুর ভেতরে ও বাইরে কতগুলো একই কৌণিক অবস্থানে দাতব খাঁজ কাটা থাকে।

এই খাঁজ সমূহকে প্যাঁচ বা থ্রেড ( Thread ) বলা হয়ে থাকে।

প্যাচের উঁচু অংশকে এস ক্রেস্ট ( Crest ) ও নিচু অংশকে রুট ( Root ) বলে।

ধাতুর বাহিরে এ জাতীয় প্যাঁচ কর্তন করা হলে তাকে বাহিরের প্যাঁচ ( External Thread )

এবং ভিতরে হলে ভিতরের প্যাঁচ ( Internal Thread ) বলে।

উল্লেখ্য, প্যাঁচ মেশিনে ও হাতে কেটে তৈরি করা হয়ে থাকে।

একই পরিমাপের অধিক সংখ্যক বস্তুকে দ্রুত প্যাঁচ কর্তনের জন্য মেশিন দ্বারা কাটাই উত্তম।

কিন্তু এই ক্ষেত্রে মেশিন ও মেশিন শপ এবং মেশিন পরিচালনার জন্য দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন পড়ে।

রিপেয়ার ও মেরামতের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে এক দিকে যেমন দু-চারটি নাট তৈরি করতে হয়, আবার বোল্ট , স্টাড ও স্ক্রু তৈরি করতে হয়।

যে স্থানে এ সকল আটকানোর বস্তু ব্যবহার করতে হয় ঐ সকল স্থানের প্যাঁচ নষ্ট হয়ে গেলও পুনরায় প্যাঁচ কাটতে হয়।

এসকল ক্ষেত্রে হস্ত চালিত টুলস দ্বারা প্যাচ কর্তন শ্রেয়।

সাধারণত ধাতব বস্তুর বাইরে প্যাঁচ কেটে বোল্ট, স্টাড ও স্ক্রু তৈরি করতে ডাই ( Die ) নামক হস্তচালিত টুলস ব্যবহৃত হয়।

পক্ষান্তরে নাটের ভিতর ও ধাতব বস্তুর ছিদ্রে প্যাঁচ কাটার জন্য যে হস্ত চালিত টুলস ব্যবহৃত হয় তাকে ( ট্যাপ ) Tap বলা হয়।

এরূপ ডাই কিংবা ট্যাপ দ্বারা গোলাকার ধাতব বস্তুর বাহির কিংবা ভিতরের থ্রেড কাটার প্রক্রিয়াকে হাতে প্যাচ কাটা ( Manual Thread Cutting) বলে।

১. হাতে কাটা প্যাচের স্ট্যান্ডার্ড গুলোর নামঃ

স্ক্রু থ্রেন্ড অর্থাৎ প্যাচ প্রধানতন দুই প্রকারের হয়।

যেমনঃ

স্কয়ার থ্রেড ( Square Thread )

ভী থ্রেড ( Vee Thread )

স্কয়ার থ্রেট কখনো মেশিন ছাড়া হাতে কাটা যায় না।

পক্ষান্তরে ভী থ্রেড হাতে ও মেশিনে দুইভাবেই কাটা সম্ভব।

স্কয়ার থ্রেড ভারী লোড বহন করে বিধায় হাতে প্যাঁচ কাটার থ্রেড বলা হয় না।

শুধু ভী থ্রেড কে হাতে প্যাঁচ কাটার থ্রেড বলা হয়ে থাকে। যার মুখ্য standard সমূহের নাম নিচে উল্লেখ করা হলোঃ-

ভী থ্রেড/ ব্যাচ তিনটি স্ট্যান্ডার্ডের হয়।

(ক) ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড থ্রেড।

(খ) আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড থ্রেড

(গ ) আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড থ্রেড।

১.৩ ট্যাপ – সাইজ ড্রিল।

হাতে প্যাঁচ করতনের পূর্বে ধাতুর ভিতরে একটি পরিমাপ মতো ছিদ্র করনের প্রয়োজন পড়ে। ডিলিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ছিদ্র করণের প্রয়োজন পড়ে ।

ড্রিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ছিদ্র করণের কাজ সম্পন্ন করতে হয়। তারপর হস্তধারা চালিত ট্যাপ নামক হ্যান্ড টুলসটি ট্যাপ রেঞ্জ দ্বারা পরিচালনা করে এ প্যাঁচ করতনের কাজটি সম্পন্ন করতে হয়।

প্যাঁচের পিচ / গভীরতার পরিমাপ বিবেচনা করে বা হিসাব করে সর্বদা যে পরিমাপের ট্যাপ অন্তঃপ্যাঁচ কর্তনে ব্যবহৃত হবে তার চেয়ে ব্যাসের দিক দিয়ে ছোট সাইজের ড্রিল বিট চালিয়ে ট্যাপ পরিচালনার জন্য ছিদ্রটি ড্রিলিং করতে হয় ।

আর এই ছিদ্রকে ট্যাপ – সাইজ ড্রিল, সংক্ষেপে T.S.D বলে।

ট্যাপ সাইজ ড্রিল হিসেব করার পদ্ধতিঃ

T.S.D = ট্যাপ সাইজ ড্রিল

D = থ্রেড / ট্যাপের সাইজ

P = থ্রেড পিস

ট্যাপ সাইজ ড্রিল আমেরিকান ও মেট্রিক পদ্ধতিতেঃ T.S.D = D-P

ট্যাপ সাইজ ড্রিল ব্রিটিশ পদ্বতিতে = T.S.D = D-1.28 P

মনে রাখতে হবে, আমেরিকান ও মেট্রিক পদ্ধতির প্রত্যেকটি পরিমাপ মিঃ মিটারে ও ব্রিটিশ পদ্ধতির প্রত্যেকটি মাপ ইঞ্চিতে গণনা করা হয়।

১.৪ ডাই – স্টক নির্বাচন।

ডাই – স্টক একটি লিভার বা রেঞ্জ বিশেষ যাতে দুটি হাতল রয়েছে এবং মধ্যবর্তী স্থানে নির্বাচিত ডাইকে স্থাপন ও অনড়করণের ব্যবস্থা রয়েছে।

ডাই – স্টক মূলত দুই প্রকারের হয় । যেমনঃ

(ক) রাউন্ড ডাই – স্টকঃ এটাতে রাউন্ড স্পিলিট ব্যবহৃত হয়। এটার ফ্রেম গোলাকার ও ডাইকে অনড় করার জন্য দুটি স্ক্রু ও ডাইকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অপর একটি স্ক্রু থাকে।

(খ) স্টক ডাই – স্টকঃ এটার ফ্রেম আকৃতি আয়ত কার । এর মধ্যে একখানা স্লাইড বক্স থাকে এবং একটি এডজাস্টিং স্ক্রু থাকে, যা দ্বারা ডাইকে অনড় ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ডাই পরিচালনার জন্য এটাতেও দুটি হাতল থাকে। ডাই এর আকৃতিভেদে এদের মধ্য হতে যথার্থ ডাই স্টকটি নির্বাচন করতে হয়।

১.৫ ডাই দ্বারা বাহিরের প্যাচ কাটার পদ্ধতি।

নিচে ডাই দ্বারা বাহিরের প্যাঁচ কর্তন প্রণালী ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলোঃ

(ক) ডাইয়ের আকৃতি অনুসারে ডাই – স্টক নির্বাচন করুন।

(খ) ডাই স্টক এর স্ক্রু টিলা দিয়ে নির্ধারিত স্থানে ডাইস স্থাপন করুন।

(গ) রাউন্ড স্পিলিট ডায়াস্টকের ক্ষেত্রে দুইপাশের দুটি স্ক্রু দিয়ে ডাই আটকাও এবং মধ্যস্থানের স্ক্রু টি প্রথমত কিছুটা প্রবেশ করিয়ে ডাইকে কিছুটা সম্প্রসারিত করে নাও।

(ঘ) বোল্ট , স্ক্রু বা স্টার্ড যাতে প্যাঁচ কাটতে হবে তাকে ভাইসে আবদ্ধ করো।

(ঙ) ডাইকে এর উপর স্থাপন করে প্রথমত আলতোভাবে দুই তিনবার আবর্তন করুন।

(চ) ধাতু কর্তন আরম্ভ করলে ডাই স্টকের সমান্তরাল অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হও।

(ছ) দুহাতে ডাই এর দুটি হাতল ধরে ডাই পরিচালনা করুন।

(জ) ডাই-স্টক ছালনা খালে প্রতিবার ঘূর্ণনের পর অর্ধেকবার বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে আবার সম্মুখ দিকে পরিচালনা কর।

(ঝ ) ডাই পরিচালনাকালে প্যাঁচ কর্তনের স্থানে কয়েক ফোঁটা লুব অয়েল বা কাটিং অয়েল দিয়ে কর্তন স্থান তৈলাক্ত কর।

(ঞ ) লক্ষ্য রাখতে হবে, ডাই সর্বদা সমান্তরাল অবস্থানে রেখে যেন আবর্তিত হয়, তাহলে সঠিকভাবে প্যাঁচ কর্তন হবে।

(ট ) ডাই পরিচালনার সময় মাত্রাতিরিক্ত চাপে পরিচালনা করা উচিত নয়, তাহলে প্যাচ ফেটে /কেটে যাবে।

(ঠ ) অগ্র – পশ্চাৎ আবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে প্যাঁচ কর্তন করতে হবে।

(ড ) প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কাট ডাই থাকলে ধারাবাহিকভাবে একটির পর অপরটি স্টকে যুক্ত করে প্যাঁচ করতন সম্পন্ন করতে হবে।

(ঢ ) এডজাস্টেবল ডাই স্টক হলে প্রথম আবর্তনের পর মধ্যস্থানের স্ক্রুকে ঢিলা দিয়ে ও দুই পাশের স্ক্রু দুটিকে টাইট করে ডাই এর ব্যাস কিছুটা কমিয়ে কমিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কাট দিয়ে প্যাঁচ কর্তন সম্পন্ন করতে হবে।

(ণ ) প্যাচ কর্তন শেষ হলে ডাই – স্টককে বিপরীত দিকে আবর্তন করে তুলে নিতে হবে।

(ত ) কর্তনের পর প্যাঁচের আকৃতি ও পিচ নিরীক্ষণ করে দেখতে হবে যেন প্যাঁচ নির্ধারিত গভীরতায় ও ক্রমাগত প্যাঁচের তৈরি হয়েছে।

(থ ) কার্যান্তে ডাই-স্টক হতে ডাইকে অপসারণ ও পরিষ্কার করে নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

Tanse বা কাল কাকে বলে?

Parts of speech বা পদ প্রকরণ

(১.৬) বাহিরের প্যাঁচ কাটা কালীন সতর্কতা সমূহঃ

(ক ) ডাই এর গায়ে খোদাই করা ভার ও পরিমাপ লেখা থাকে এবং তা দেখে ডাই সনাক্ত করতে হবে।

(খ) যদি প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় কাঠের ডাই হয়, তা ক্রম দ্বারা মোতাবেক ব্যবহার করতে হবে।

(গ ) যদি অ্যাডজাস্টেবল ডাই হয়, তাহলে কাঁটা দিক উপরের স্ক্রুর দিক দিয়ে এবং প্রয়োজন মাফিক সমন্বয় করে প্যাঁচ করতন করতে হবে।

(ঘ) মাত্রাতিরিক্ত চাপে প্যাচ কর্তন করা উচিত নয়।

(ঙ ) অগ্র পশ্চাৎ আবর্তনের মাধ্যমে ক্রমাগত অগ্রসর প্রক্রিয়ার প্যাচ কর্তন করা উত্তম।

( চ ) কমপক্ষে তিনবার প্যাঁচ কর্তন সম্পন্ন করা উচিত কারণ একবারে অতিরিক্ত ধাতু ধরে কর্তন করলে প্যাচ কেটে যেতে পারে।

(ছ ) ডাই – স্টক যথাসম্ভব সর্বদা ভূমির সঙ্গে সমান্তরাল রেখে প্যাঁচ কর্তন করা উত্তম।

( জ ) মাঝে মাঝে প্যাঁচ কর্তন করার স্থানে কাটিং অয়েল/লুব অয়েল দিয়ে প্যাঁচ কর্তন করলে কর্তন সহজ ও প্যাঁচ ভালো হয় এবং অয়েল কুলিংয়ের কাজ করে।

(ঝ ) প্যাঁচ কাটার সময় ডাই – স্টকের হাতলকে তৈলাক্ত মুক্ত রাখা উচিত।

(ঞ ) নিজের হাতকেও তৈলাক্ত মুক্ত রাখা উচিত।

(ট ) কার্যান্তে কাঠের বক্সে/ নির্ধারিত বক্সে ডাই ও ডাই স্টক পরিষ্কার করে চিত্রের ন্যায় সাজিয়ে রাখা উচিত।

আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন ।

আমার পোস্টটি যদি ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ সবাইকে

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *