আন্তর্জাতিক লেনদেনে মূলধন হিসাব ও পরিসংখ্যানগত ভুল ত্রুটি – Capital accounting and statistical errors in international transaction

Capital accounting and statistical errors in international transaction – আন্তর্জাতিক লেনদেনে মূল ধন হিসাব ও পরিসংখ্যানগত ভুল ত্রুটি।

আপনারা এই পোস্ট থেকে জানতে পারবেন Capital accounting and statistical errors in international transaction সম্পর্কে।

এর আগের পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্য সম্পর্কে।

অর্থনীতি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করার জন্য আগের পোস্ট দেখুন।

আন্তর্জাতিক লেনদেনে মূল ধন হিসাব – Capital accounts in international transaction

একটি দেশের নাগরিক বা সরকার বিদেশি নাগরিক বা সরকারকে কোন ঋণদান করলে বা কোন সম্পদ ক্রয় করলে ( ঋণাত্মক ভুক্তি ) বা তাদের কাছ থেকে কোন ঋণ গ্রহণ করলে তা মূলধন হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।

বাংলাদেশ সরকার বিদেশের কাছ থেকে ১- ডলার ঋণ নিলে সরকার তাদের কাছে একটি পরিসম্পদ বিক্রয় করে – ভবিষ্যতে সুদসহ এক ডলার পরিশোধের প্রতিজ্ঞা করতে হবে।

এরূপ লেনদেন মূলধন হিসেবে ঋণাত্মক ভুক্তি হিসেবে দেখা দেয় কারণ ঋণের অর্থ বাংলাদেশের পণ্য প্রাপ্তি বা মূলধনের অন্তঃপ্রবাহ।

মূলধন হিসাবের লেনদেন নানা রূপ হতে পারে, যেমনঃ ব্যক্তিগত বা সরকারি লেনদেন, প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা পত্র কোষ বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন বা স্বল্প মেয়াদী মূলধন।

মূলধন হিসাবের সকল আদান-প্রদানের নীট মূল্যকে মূলধন হিসেবে ভারসাম্য বলা হয়।

এবং এই ভারসাম্য ধনাত্মক হলে নিট মূলধন অন্তঃপ্রবাহ ঘটে এবং ঋণাত্মক হলে নীট মূলধন বহিঃপ্রবাহ ঘটে।

আরো পড়ুনঃ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্য – Balance of transaction in international trade

shall and will এর ব্যবহার উদাহরণসহ আলোচনা

অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কাকে বলে? সংজ্ঞা – what is International trade? Definition

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাকে বলে? সংজ্ঞা ও গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক লেনদেনে পরিসংখ্যানগত ভুল ত্রুটি – Statistical errors in international transaction

লেনদেনের ভারসাম্য হিসেবে যে লক্ষ লক্ষ পৃথক লেনদেন অন্তর্ভুক্ত করা হয় সে সবের পরিপূর্ণ ও নির্ভুল হিসাব পাওয়া দুরূহ ব্যাপার।

লেনদেনের হিসাব লিপিবদ্ধ করায় নানারূপ ভুল ত্রুটি হয়, তথ্য পেতে অনেক সময় দেরি হয়, চোরাকারবার হয় বা অর্থ প্রদানের পরিমাণ কম করে দেখানো ইত্যাদি কারণে লেনদেনের হিসাবের দেনা ও পাওনার দিকে একেবারে সমান হয় না।

এই সমতা আনার জন্য যে সমন্বয় প্রয়োজন সেটিকে পরিসংখ্যানগত ভুল ত্রুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

পরিশেষে যে দেশের লেনদেনের ভারসাম্য হিসাব বিবেচনা করা হয় সে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিবর্তন হতে পারে।

Capital accounting and statistical errors in international transaction -
Capital accounting and statistical errors in international transaction

মুদ্রার মজুর তিন প্রকার হতে পারে – আমেরিকান ডলার, সোনা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ঋণ কৃত এসডিআরএস।

মনে রাখা দরকার যে , মুদ্রার মজুদ দেশের অভ্যন্তরে রাখা প্রয়োজনীয় নয়।

বস্ত্রতঃপক্ষে অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের মজুদের কিছু অংশ বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে জমা রাখে।

লেনদেনের হিসেবের অন্যান্য সকল দফার নীট মূল্যে প্রতিফলন ঘটে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিবর্তনে।

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিবর্তন এবং অন্যান্য অন্তর্ভুক্ত দফার নীট মূল্যের মধ্যে যে তারতম্য তাই পরিসংখ্যানগত ভুল ত্রুটি হিসেবে সনাক্ত করা হয়।

( আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য – International trade balance )

দ্রব্যের আমদানিকৃত রপ্তানির (+) নিট মূল্যকে বাণিজ্যের ভারসাম্য বলা হয় ।

আমরা জানি যে লেনদেনের ভারসাম্য একটি দেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের দ্রব্য, সেবা কর্ম, একপাক্ষিক হস্তান্তর, পরিসম্পদের লেনদেনের বিবরণ দেয়।

সুতরাং বাণিজ্যের ভারসাম্য একটি দেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনের আংশিক চিত্র দেয়।

তবুও বাণিজ্যের ভারসাম্যের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়- বিশেষতঃ দেশের সংবাদ মাধ্যমে এটির উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

প্রচার মাধ্যমে গুরুত্ব পাওয়ার একটি কারণ অবশ্য দ্রব্যের আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত উপাত্ত তুলনামূলকভাবে সহজে পাওয়া যায়।

সেবা কর্ম বা পরিষম্পদের লেনদেনের উপাত্ত কিছুটা দেরি পাওয়া যায়।

বাণিজ্যের ভারসাম্যের অবস্থার ব্যাখ্যা কৌশল পূর্ণ হতে পারে।

বাণিজ্যের ভারসাম্যের উদ্বৃত্তকে ভাল এবং ঘাটতি কে খারাপ বিবেচনা করা হয়।

উদ্বৃত্তের অর্থ হচ্ছে বিদেশে আমাদের দেশের দ্রব্যের চাহিদা ভাল এবং আমাদের দেশের অধিবাসীরা দেশীয় পণ্য বেশি ক্রয় করছে।

সুতরাং দেশীয় অর্থনীতি ভাল অবস্থায় আছে। অপরদিকে ঘাটতির অর্থ আমাদের দ্রব্য বিশ্ববাজারে যথেষ্ট প্রতিযোগিতা মূলক নয়।

এবং আমাদের জীবন যাপনের মান রক্ষা করার জন্য কিছু পরিবর্তন অবশ্য দরকার।

এই বিশ্লেষণকে সঠিক বলা যায় যদি বিশ্ববাজারে আমাদের দ্রব্যের চাহিদার বৃদ্ধি বা হ্রাসের ফলে বাণিজ্যের ভারসাম্য এই উদ্বৃত্ত বা ঘাটতি হয়।

কিন্তু অন্যান্য কারণেও বাণিজ্যের ভারসাম্য ঘাটতি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে মুনাফার সুযোগ নেয়ার জন্য বিদেশী বিনিয়োগ আসতে পারে।

এজন্য প্রচুর মূল্যবান যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হবে এবং ফলে বাণিজ্যের ভারসাম্যে ঘাটতি হবে।

কিন্তু এই ধরনের ঘাটতিতে উদ্বিগ্ন হলে ভুল করা হবে। কারণ এই অতিরিক্ত বিনিয়োগ দেশের উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সারসংক্ষেপঃ

১ . লেনদেনের ভারসাম্য একটি দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আর্থিক লেনদেনের বার্ষিক হিসাব বিবরণী। রপ্তানিকে পাওনা এবং আমদানিকে দেনা হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

২ . লেনদেনের ভারসাম্যের প্রধান অংশগুলো হচ্ছেঃ ১. চলতি হিসাব, ২. মূলধন হিসাব, ৩. পরিসংখ্যানগত হিসাব, ৪. বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিবর্তন।

৩. বাণিজ্যের ভারসাম্যের অবস্থা বিশ্লেষণের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার।

বাণিজ্যের ভারসাম্যের ঘাটতি খারাপ চোখে দেখা হয়। তবে দেশে বিনিয়োগ চাহিদা বৃদ্ধির ফলে আমদানি চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং ফলে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন।আমার লেখার মাঝে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে সংশোধনের পরামর্শ দিন।

আর পোস্টটি যদি ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ সবাইকে

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *